বাংলাদেশের খ্যাতনামা জাদুশিল্পী এস. সাহেব মন্টুর বর্তমান সময়ের অভিমত


জনি হাসান , বার্তা সম্পাদক, আমার নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম


ভারতের নদীয়া জেলার রানাঘাটের জমিদার পরিবারে ১৯৪২ সালে খ্যাতনামা জাদুশিল্পী এস. সাহেব মন্টু জন্ম গ্রহণ করেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে উনি মেজ । বড় ভাই ভিকু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। বর্তমানে ছোট ভাই তা‌জেম আলির সাথে, বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার পৌরসভার তিন নাম্বার ওয়ার্ডে, বাজার পাড়াতে, নিজের ৭ শতক জমিতে বসবাস করেন।

এস . সাহেব ভারতে লেখাপড়া জীবন শুরু করেন। এবং স্নাতক শেষ করেন। কলকাতার বিখ্যাত মায়াজাল ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বিশ্বের বিখ্যাত যাদু শিল্পী পিসি সরকারের শিষ‌্য অরবিন্দ কুমার মুখার্জির ছাত্র।

এস.সাহেবের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রতিবেদক প্রশ্ন করলে জানান, কলকাতার চাকদার মেয়ে কল্যাণী অধিকারীর সাথে প্রেমের সম্পর্কের স্থায়ী রূপ দেন বিয়ের মাধ্যমে ১৯৬৯ সালে। বর্তমানে উনার স্ত্রীর নাম ধর্মান্তরিত হবার পরে রো‌কেয়া বেগম। এই দম্পতির এক ছেলে সাইমুন আ‌লি ( পিন্টু ) ।

ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা প্রসঙ্গে তিনি জানান, জীবন বাঁচানোর তাগিদে ১০৬৫ বিঘা জমি, বাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। ছোটবেলার জাদুর নেশাকে‌ পরে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। বর্তমানে তি‌নি আমাদের দেশের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী। উনাকে প্রশ্ন করলে স্মৃতিচারণ করে বলেন, উনার পৈত্রিক সম্পত্তি যেটা ভারতে দখল করে অন্যরা ভোগ করছে সেই সম্পত্তির উপর মুনসুর আলী ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । তিনি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য যেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

বর্তমান করোনাকালীন সময় কেমন যাচ্ছে প্রশ্ন করলে, বলেন, ছোট ভাই এবং উনাদের পরিবার যৌথভাবে বসবাস করেন । যেখানে মোট সদস্য সংখ্যা ১৫ জন। তাছাড়া উনার জাদু শিল্প টিমের আছেন ২৫ জন সদস্য । তাদেরও পরিবার আছে, কিন্তু এই ভাইরাস চলাকালীন সময়ে সব বন্ধ থাকাতে এই আট মাস খুবই অর্থনৈতিক টানাপো‌ড়েনে দিন যাচ্ছে। বর্তমান আ‌য়ের উৎস সম্পর্কে তিনি জানান , সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় থেকে বাৎসরিক ১৪৫০০৳ টাকা করে পান। যা মাত্রায় অত‌ি নগণ্য ।

এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চান , আর্থিক সহায়তা নয় কাজ চালিয়ে যাবার অনুমতি চান । নতুবা আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন । আমাদের দেশে এমন গুণী প্রতিভাধর শিল্পীর মূল্যায়ণ কোনভাবেই হয়না এমনকি ন্যূনতম বেঁচে থাকার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কিংবা এসব শিল্পের সাথে যারা জড়িত তারা আজ চরমভাবে উপেক্ষিত একটু হতাশা মি‌শ্রিত স্ব‌রেই বললেন এস. সাহেব মন্টু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here