কোটচাঁদপুর উপ‌জেলা প্রাথ‌মিক শিক্ষা অ‌ফিসা‌রের বিরু‌দ্ধে নানা অ‌ভি‌যোগ

জ‌নি হ‌াসান(স্টাফ রি‌পোর্টার):ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, সেচ্ছাচারিতা, শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। একাধিক শিক্ষকদের অভিযোগে জানাযায়, শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হয়রানি করে থাকেন। তিনি নিয়ম বিধির কথা বলে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে তার মর্জিমত বদলীর সুপারিশ এবং তা বাস্তবায়ন করেন। এখানে বদলী হয়ে আসার পর থেকেই এ কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে স্কুলের শিক্ষকদের বদলীর ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছেমত নিয়ম বিধি বা প্রজ্ঞাপনের ব্যাখ্যা দিয়ে বদলীর সুপারিশ বাস্তবায়ন করে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার বারোমাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খাইরুল ইসলাম শহরের মডেল স্কুলের শুন্য পদে জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে বদলীর আবেদন করেন। এ সময়ে একই স্কুলের অন্য একজন শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার ও ওই শুন্য পদে বদলীর আবেদন করেন। কিন্তু এরা দু`জনই একই স্মারকে (প্রথম) যোগদানকারি হলেও বয়সের জৈষ্ঠতার খাইরুল ইসলাম ৫ বছরের সিনিয়র। কিন্ত শিক্ষা অফিসার তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তাকে আবেদন করা থেকে বিরত করতে উঠে পড়ে লাগেন বলে তিনি জানান।

শিক্ষা অফিসার খাইরুল ইসলামকে মনগড়া নিয়মের ব্যাখ্যা দিয়ে বদলীর কার্যক্রম সমাধান না করে কালক্ষেপন ও তালবাহানা করে আসছেন আজোবধি। এমনকি শিক্ষাদ স্মারকে (১ম) যোগদানকৃত হলে বয়সের জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে আবেদন চুড়ান্ত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে খাইরুল ইসলাম বদলী পাওয়ার যোগ্য। এর আগে রথখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকে বদলী ও প্রতিস্থাপন বয়সের সমস্যা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলপাড় হয়।

এছাড়া পারলাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বহু সংখ্যক শিক্ষকের সাথে চরম দুর্রব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি শিক্ষকদের অফিসের যে কোন কাজে আসলে নানা অজুহাতে নাকি নাজেহাল করে ছাড়েন। তুচ্ছ কারনে বা অহেতুক হয়রানি করতে কথায় কথায় শোকজ করে ছাড়েন। এ নিয়ে নাকি পুরো উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষকরা তার প্রতিক্ষোভ ও অসন্তোষের জের ধরে প্রতিনিয়ত সমালচনার শেষ নেই।

কয়েকমাস আগেও তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত টাকা থেকেও নাকি পার্সেন্টেজ নেয়ার অভিযোগ নিয়ে একাধিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। পরে তিনি তদবিরের মাধ্যমে তা মিমাংসা করে ফেলেন। এছাড়া এ বছর উপজেলায় একাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে সরকার সরবরাহকৃত পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বেসরকারি প্রকাশনীর বই বেআইনি ভাবে ছাত্রছাত্রীদের কিনতে বাধ্য করা ও পাঠ্য তালিকার অর্ন্তভুক্ত করে পাঠদানের ব্যাপারে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্তা গ্রহনের পরিবর্তে রহস্যজনক কারনে নিরব রয়েছেন। অথচ প্রাথমিক ও গন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব স্মাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞপনের নির্দেশনায় বলা হয় সরকার কতৃক প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে এনসিটিবি প্রনীত ছাড়া অন্য পাঠ্যপুস্তক ও সহপাঠ্য সুচিতে অর্ন্তভুক্ত করা যাবে না। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, অনুমোদনহীন বই পাঠ্যসূচীতে অর্ন্তভুক্তি বে আইনি ও নৈতিকতা বিরোধী। কিন্তু শিক্ষা অফিসের রহস্যজনক নিরবতায় কিন্টার গার্টেন স্কুল গুলো এসব নির্দেশনা মানছে না।

এসব বিভিন্ন অভিযোগের বিষয় নিয়ে শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন, আপনার সাংবাদিকতার বয়স কত? —— তাই তার এসব কর্মকান্ডের অভিযোগ সম্পর্কে উর্ধ্বতন কতৃিপক্ষের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগিরা দাবি জানিয়েছেন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here